মুহাম্মদ শেখ রাসেল, টেকনাফ :
কক্সবাজারের টেকনাফে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে রবিউল আলম নামের এক স্কুল শিক্ষকসহ অপর এক রোহিঙ্গা। তবে রোহিঙ্গা ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১ এপ্রিল ) রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মুক্তিপণ দিয়ে তারা ঘরে ফিরেছে বলে জানায় অপহৃতের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম।
অপহৃত স্কুল শিক্ষক উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার ‘আলোর পাঠশালা’ নামক একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
এ বিষয়ে অপহৃতের ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন,গেল শনিবার রাত ৮টার দিকে আমার ভাইসহ অপরজন ইজিবাইকে (টমটম) করে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় অপহরণকারীরা আমার ভাইসহ আরেকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে মুক্তিপণ দাবি করে।
প্রথমে ১২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও পরে দুইজন থেকে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়।
আলোর পাঠশালা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেশ বলেন, ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষদের। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা। এভাবে তো চলতে পারে না!
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, অপহরণের বিষয়টি শুনেছি। কত টাকা দিয়ে ফিরে এসেছে তা জানি না। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে অপহৃত রবিউল আলমের বাবার সাথে কথা হয়। তিনি বলেছিলেন ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছে আমার ছেলে।
এদিকে টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মার্চ মাসেই ২৭ জন অপহরণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে স্কুল শিক্ষক,মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রসহ অন্যান্য সাধারণ কৃষকরা রয়েছে। তাঁরা সকলেই বিভিন্নভাবে মুক্তিপণ দিয়েই ফিরেছে। তবে এদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গাও ছিল। স্থানীয়রা অপহরণ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। অপহরণ থেকে মুক্তির কোনো পথ দেখছে না টেকনাফের অসহায় বাসিন্দারা। টেকনাফ উপজেলা যেন এক অনিরাপদ জনপদে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করেন সচেতন মহল।