নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ -৫ পেয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা তাঁর জন্য খুবই কঠিন! বেঁচে নেই বাবা,নেই বড় ভাইও। তাকে সাপোর্ট দেওয়ার মতো তেমন কেউ-ই নেই। মায়ের আঁচলে ভর করেই এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হলেও মেডিকেলে পড়ানোর সাপোর্ট কে দেবে,সে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে পিতৃহারা সানজানার।
নুসরাত জাহান সানজানা টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডস্থ উনচিপ্রাংয়ের বাসিন্দা মরহুম সব্বির আহমদ ও নাসরিন সুলতানা রিজামনি দম্পতির প্রথম কন্যা।
২০২১ সালের ৮ নভেম্বর পিতা সাব্বির আহমদ এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান। সানজানা সব্বিরের বড় মেয়ে হওয়ায় ছোট ভাইবোনের দায়িত্বও তার ঘাড়ে এসে পড়েছে স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু মা রিজামনির অতুলনীয় সাহসী ভূমিকা ও সীমাহীন সাপোর্টের ফলে আজ সানজানা এইচএসসিতে জিপিএ -৫ অর্জন করেন।
মা রিজামনি বলেন, সানজানার বাবা সব্বিরের স্বপ্ন ছিল সন্তানদের তিনি লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজের সূর্য সন্তান হিসেবে গড়ে তুলবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তিনি আকস্মিকভাবে সন্তানদের এতিম করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ।
পিতার কাঙ্খিত সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সানজানাকে ডাক্তার বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সীমাহীন কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। মেয়েরও স্বপ্ন, সে একজন ভালো ডাক্তার হবে এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবে। আল্লাহর উপর ভরসা করে বাবা ও মেয়ের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সকলের নিকট মেয়ের ভবিষ্যত জীবনের সফলতার জন্য দু’য়া কামনা করছি।